সরকারি কর্মচারীদের হাজিরার নিয়মে বড় বদল! বায়োমেট্রিক নয়, এবার চালু হচ্ছে 'জিও-ফেন্সড' মোবাইল সিস্টেম
![]() |
| পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মীদের হাজিরার নিয়মে বড় পদক্ষেপ. Source: HR Katha |
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অফিসে উপস্থিতি বা হাজিরা নথিভুক্ত করার পদ্ধতিতে আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। অফিসে গিয়ে আর বায়োমেট্রিক মেশিনে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) দেওয়া বা সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে হাজিরা দেওয়ার দিন শেষ হতে চলেছে। তার বদলে এবার কর্মচারীরা নিজেদের স্মার্টফোনের মাধ্যমেই সহজে উপস্থিতি জানাতে পারবেন।
সম্প্রতি নবান্নের তরফ থেকে এই মর্মে একটি নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে এই প্রযুক্তিভিত্তিক হাজিরা ব্যবস্থার রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
কী এই 'জিও-ফেন্সড' মোবাইল অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম?
নতুন এই সিস্টেমে 'Geo-Fencing' প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। এর মূল বিষয়গুলো হলো:
নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমা: প্রতিটি সরকারি দপ্তর ও অফিসের জন্য একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল ভৌগোলিক সীমানা (Geo-boundary) সেট করা থাকবে।
মোবাইল অ্যাপ নির্ভর ব্যবস্থা: কর্মীরা অফিসে পৌঁছে নিজেদের স্মার্টফোনে নির্ধারিত একটি মোবাইল অ্যাপ খুললেই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবস্থান চিহ্নিত করবে।
এক ক্লিকে হাজিরা: অফিস চত্বরের ভেতরে প্রবেশ করলেই অ্যাপের মাধ্যমে মাত্র কয়েক সেকেন্ডে হাজিরা নথিভুক্ত হয়ে যাবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত? প্রধান সুবিধাসমূহ
প্রশাসনের মতে, এই নতুন ব্যবস্থা চালু হলে সরকারি দপ্তরগুলোতে বেশ কিছু বড় ধরনের সুবিধা দেখা যাবে:
খরচ কমানো: বায়োমেট্রিক বা ফেস রিকগনিশন মেশিন কেনা এবং তার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পেছনে প্রচুর অর্থ খরচ হয়। সফটওয়্যার ভিত্তিক নতুন এই ব্যবস্থায় হার্ডওয়্যারের পেছনে বাড়তি খরচ অনেকটাই বেঁচে যাবে।
সময় সাশ্রয় ও ভিড় এড়ানো: অফিসে ঢোকার মুখে বায়োমেট্রিক ডিভাইসের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার ঝামেলা থাকবে না। ফলে অযথা ভিড় কমবে ও সময়ের সাশ্রয় হবে।
সহজ বাস্তবায়ন: নতুন কোনো অফিস তৈরি হলে সেখানে আলাদাভাবে মেশিন বসানোর প্রয়োজন পড়বে না। সহজেই ডিজিটাল সীমানা নির্ধারণ করে এই ব্যবস্থা চালু করে দেওয়া যাবে।
স্বচ্ছতা ও সময়ানুবর্তিতা: প্রযুক্তি নির্ভর এই ব্যবস্থার ফলে হাজিরার ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাস্তবায়নের পথে কতদূর?
এর আগে বিভিন্ন দপ্তরে ফেস-রিকগনিশন বায়োমেট্রিক মেশিন বসানোর প্রস্তুতি চলছিল। সে জন্য WEBEL এবং WTL-এর সঙ্গে যোগাযোগও করা হয়েছিল। তবে ২৪ জুলাই জারি হওয়া নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, হার্ডওয়্যারনির্ভর ব্যবস্থার পাশাপাশি সফটওয়্যার ও মোবাইল ভিত্তিক সুবিধাকেও প্রাধান্য দেওয়া হবে।
ইতিমধ্যেই বেশ কিছু দপ্তরে পরীক্ষামূলকভাবে (Pilot Project) এই জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। রাজ্য সরকারের পরামর্শ অনুযায়ী, আগ্রহী দপ্তরগুলি WEBEL বা WTL-এর সহায়তায় দ্রুত এই আধুনিক হাজিরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
